আন্দোলনের বিরোধীতাকারী শায়খগণ, কয়েকটি হাদিস পড়ুন:- _________________ আবু সাঈদ খুদরি রাযি. বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ﻣَﻦْ ﺭَﺃَﻯ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻣُﻨْﻜَﺮًﺍ ﻓَﻠْﻴُﻐَﻴِّﺮْﻩُ ﺑِﻴَﺪِﻩِ، ﻓَﺈِﻥْ ﻟَﻢْ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻊْ ﻓَﺒِﻠِﺴَﺎﻧِﻪِ، ﻓَﺈِﻥْ ﻟَﻢْ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻊْ ﻓَﺒِﻘَﻠْﺒِﻪِ، ﻭَﺫَﻟِﻚَ ﺃَﺿْﻌَﻒُ ﺍﻟْﺈِﻳﻤَﺎﻥِ অর্থাৎ তোমাদের কেউ যদি আপত্তিকর কোন কিছু দেখে, তাহলে সে যেন সেটা হাত দ্বারা প্রতিহত করে। হাত দ্বারা প্রতিহত করতে সম্ভব না হলে মুখ দ্বারা করে। মুখ দ্বারা প্রতিহত করতে সক্ষম না হলে অন্তত যেন অন্তর দ্বারা ঘৃণা পোষণ করে। আর এটা হলো ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর। {মুসলিম: ৫৯} ঈমানের এ তিনটি স্তর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরেকটি হাদিসে বিস্তারিত বলেছেন। উমর রাযি. বর্ণনা করেন: ্র ﺗُﻮﺷِﻚُ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﺄُﻣَّﺔُ ﺃَﻥْ ﺗَﻬْﻠَﻚَ ﺇِﻟَّﺎ ﺛَﻠَﺎﺛَﺔَ ﻧَﻔَﺮٍ : ﺭَﺟُﻞٌ ﺃَﻧْﻜَﺮَ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻭَﺑِﻠِﺴَﺎﻧِﻪِ ﻭَﺑِﻘَﻠْﺒِﻪِ، ﻓَﺈِﻥْ ﺟَﺒُﻦَ ﺑِﻴَﺪِﻩِ، ﻓَﺒِﻠِﺴَﺎﻧِﻪِ ﻭَﻗَﻠْﺒِﻪِ، ﻓَﺈِﻥْ ﺟَﺒُﻦَ ﺑِﻠِﺴَﺎﻧِﻪِ ﻭَﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻓَﺒِﻘَﻠْﺒِﻪِ অর্থাৎ তিনটি দল ছাড়া এ উম্মাহর সকলে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে হাত, মুখ এবং অন্তর দ্বারা। হাত দ্বারা প্রতিবাদ করতে অক্ষম হলে মুখ এবং অন্তর দ্বারা প্রতিবাদ করে। হাত এবং মুখ দ্বারা প্রতিবাদ করতে অক্ষম হলে শুধু অন্তর দিয়ে হলেও প্রতিবাদ করে। { জামিউল উলূমি ওয়াল হিকাম: ২৪২, ইবনে রাজাব হাম্বলি} ইবনে রাজাব হাম্বলি রাহি. এ হাদিস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে বলেন: ﻓَﺪَﻟَّﺖْ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﺄَﺣَﺎﺩِﻳﺚُ ﻛُﻠُّﻬَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻭُﺟُﻮﺏِ ﺇِﻧْﻜَﺎﺭِ ﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮِ ﺑِﺤَﺴَﺐِ ﺍﻟْﻘُﺪْﺭَﺓِ ﻋَﻠَﻴْﻪِ، ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺇِﻧْﻜَﺎﺭُﻩُ ﺑِﺎﻟْﻘَﻠْﺐِ ﻟَﺎ ﺑُﺪَّ ﻣِﻨْﻪُ، ﻓَﻤَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳُﻨْﻜِﺮْ ﻗَﻠْﺒُﻪُ ﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮَ، ﺩَﻝَّ ﻋَﻠَﻰ ﺫَﻫَﺎﺏِ ﺍﻟْﺈِﻳﻤَﺎﻥِ ﻣِﻦْ ﻗَﻠْﺒِﻪِ . অর্থাৎ এ সমস্ত হাদিস এ কথার দিকে ইংগিত করে যে, প্রত্যেকের সামর্থনুযায়ী প্রতিহত করা ওয়াজিব। হাত এবং মুখ দ্বারা প্রতিহত করতে সক্ষম না হলে অন্তত অন্তর দিয়ে হলেও করতে হবে। কারও অন্তর প্রতিবাদ না করলে বুঝতে হবে তার অন্তর থেকে ঈমান চলে গেছে। জামিউল উলূমি ওয়াল হিকাম: ২৪ বর্তমানে আমরা অনেক সময় হাত দ্বারা প্রতিহত করার সুযোগ পাই না। এজন্য রাজপথে বের হয়ে মুখ দ্বারা প্রতিবাদ করে প্রতিহত করার চেষ্টা করি। রাজপথে বের হয়ে প্রতিবাদ করার সামর্থ থাকার পরও যারা প্রতিবাদ করেন না, তারা আশা করি নিজের অবস্থা চিন্তা করবেন। এ ব্যাপারে আরেকটি হাদিস আপনাদের সামনে পেশ করছি। আলি রাযি. বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ্র ﺳَﻴَﻜُﻮﻥُ ﺑَﻌْﺪِﻱ ﻓِﺘَﻦٌ ﻟَﺎ ﻳَﺴْﺘَﻄِﻴﻊُ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦُ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺃَﻥْ ﻳُﻐَﻴِّﺮَ ﺑِﻴَﺪٍ ﻭَﻟَﺎ ﺑِﻠِﺴَﺎﻥٍ، ﻗُﻠْﺖُ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻭَﻛَﻴْﻒَ ﺫَﺍﻙَ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﻳُﻨْﻜِﺮُﻭﻧَﻪُ ﺑِﻘُﻠُﻮﺑِﻬِﻢْ، ﻗُﻠْﺖُ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻭَﻫَﻞْ ﻳُﻨْﻘِﺺُ ﺫَﻟِﻚَ ﺇِﻳﻤَﺎﻧَﻬُﻢْ ﺷَﻴْﺌًﺎ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﻟَﺎ، ﺇِﻟَّﺎ ﻛَﻤَﺎ ﻳَﻨْﻘُﺺُ ﺍﻟْﻘَﻄْﺮُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼَّﻔَﺎ ، অর্থাৎ আমার পরে এমন কিছু ফিতনা হবে মুমিনগণ সেটা হাত এবং মুখ দ্বারা প্রতিহত করতে সক্ষম হবে না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, তাহলে কীভাবে প্রতিবাদ করবে? তিনি বললেন: অন্তর দ্বারা। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, এর কারণে কী তাদের ঈমানে কোন কমতি তথা অপূর্ণতা দেখা দিবে? তিনি বললেন: না। তবে সাফা পাহাড় থেকে একটি পাথর সরে নিলে পাহাড়ের যে অপূর্ণতা দেখা দেয়, তাদের ঈমানেও ততটুকু অপূর্ণতা দেখা দিবে। (জামিউল উলূম: ২৪২) বর্তমানে আমরা হাজারো খোদাদ্রোহী কাজ বন্ধ করার জন্য মিছিল এবং মিটিং করি। মূলত এগুলো ঈমানের দ্বিতীয় স্তর। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত দ্বারা পরিবর্তন করতে সক্ষম না হলে মুখ দ্বারা প্রতিবাদের কথা বলেছেন। হাদিসের শব্দ হলো হলো তাগাইয়ুর তথা পরিবর্তন করা। হাত দ্বারা সম্ভব না হলে মুখ দ্বারা প্রতিবাদ করে পরিবর্তনের চেষ্টা করবে। বর্তমানে বাংলাদেশে আপনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসির রুমে বসে মুখ দ্বারা প্রতিবাদ করে কখনো তাগাইয়ুর তথা পরিবর্তন করতে পারবেন না। প্রতিবাদ করে পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে রাজপথে নামতে হবে। আমাদের আন্দোলন এবং প্রতিবাদের কারণে বাতিল একটু হলেও ভাবে। ইসলাম বিরোধী আইন করার আগে শতবার চিন্তা করে। মসজিদ, মাদরাসা নিয়ে ষড়যন্ত্র করার আগে নিজের ক্ষমতার চেয়ারের দিকে তাকায়। আজ আপনারা যারা আমাদের বিরোধীতায় সরব, ভাল করে মনে রাখবেন যে, আমরা আন্দোলন সংগ্রাম না করলে আপনারা এভাবে ফতোয়াবাজী করার সুযোগ পেতেন না